
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী – বিস্তারিত গাইড
স্বাগতম আমার এই ব্লগ পোস্টে! যদি আপনি কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য ট্রেনের সময়সূচী খুঁজছেন, তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই পোস্টে আমি কক্সবাজার টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, সাথে লেটেস্ট আপডেট, টিকিটের দাম, ট্রেনের নাম, এবং ভ্রমণকারীদের জন্য কিছু দরকারি টিপস। এছাড়া, ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের রুটের বিবরণও যোগ করব যাতে আপনারা উভয় দিকের যাত্রা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পান। এই রুটটি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন রুটগুলোর একটি, বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য। গত কয়েক বছরে এই রুটে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন হয়েছে, যা ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করে তুলেছে।

An iconic, green railway station to elevate your Cox’s Bazar experience
কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথের ইতিহাস: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
কক্সবাজার, বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। আগে এই রুটে যাতায়াতের জন্য বাস বা বিমানই প্রধান মাধ্যম ছিল, কিন্তু ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রেল লাইন উদ্বোধন হয়েছে। এই লাইনটি চট্টগ্রাম হয়ে যায়, যা মোট ১০২ কিলোমিটারের নতুন ট্র্যাক। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পটি দেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে, এবং এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল প্রকল্পগুলোর একটি। লাইনটিতে আইকনিক কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে, যা আধুনিক স্থাপত্যের উদাহরণ। এই রুটে এখন দুটি প্রধান ইন্টারসিটি ট্রেন চলে: কক্সবাজার এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস। এই ট্রেনগুলোর সাহায্যে যাত্রা সময় কমেছে, এবং এটি পরিবেশবান্ধবও। উদ্বোধনের পর থেকে লক্ষ লক্ষ যাত্রী এই রুট ব্যবহার করেছে। লেটেস্ট আপডেট অনুসারে, ২০২৬ সালে এই রুটে আরও ট্রেন যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা যাত্রীদের আরও সুবিধা দেবে।
Dhaka to Cox’s Bazar ভ্রমণপিপাসুদের জন্য দারুণ একটি রুট। সমুদ্র সৈকতের নীল জল, সবুজ পাহাড় আর মনমুগ্ধকর প্রকৃতির মাঝে ট্রেনযাত্রা সত্যিই এক অনন্য ও উপভোগ্য অভিজ্ঞতা।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী | Dhaka to Cox’s Bazar Train
আপনি যদি Dhaka to Cox’s Bazar ট্রেনের তথ্য খুঁজে থাকেন, তাহলে এই অংশটি আপনার জন্য। এটি মূলত কক্সবাজার থেকে ঢাকার বিপরীত রুট, এবং একই ট্রেনগুলো চলাচল করে। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী:
১. কক্সবাজার এক্সপ্রেস (ট্রেন নং: ৮১৪)
- ডিপার্চার: ঢাকা কমলাপুর থেকে রাত ১০:৩০ মিনিট।
- আরাইভাল: কক্সবাজার সকাল ৭:২০ মিনিট।
- অফ ডে: সোমবার।
- যাত্রা সময়: ৮ ঘণ্টা ৫০ মিনিট।
২. পর্যটক এক্সপ্রেস (ট্রেন নং: ৮১৬)
- ডিপার্চার: ঢাকা থেকে সকাল ৬:১৫ মিনিট।
- আরাইভাল: কক্সবাজার বিকাল ৩:০০ মিনিট।
- অফ ডে: রবিবার।
- যাত্রা সময়: ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

কক্সবাজার টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী | Coxs Bazar to Dhaka Train
২০২৬ সালের লেটেস্ট তথ্য অনুসারে, কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য দুটি প্রধান ট্রেন রয়েছে। এই সময়সূচী বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল সোর্স থেকে নেয়া, এবং এতে কোনো পরিবর্তন হলে রেলওয়ের ওয়েবসাইট চেক করুন। যাত্রা সময় প্রায় ৮.৫ ঘণ্টা, এবং ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম স্টেশনে স্টপ করে।
১. কক্সবাজার এক্সপ্রেস (ট্রেন নং: ৮১৩)
- ডিপার্চার: কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুপুর ১২:৩০ মিনিট।
- আরাইভাল: ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রাত ৯:১০ মিনিট।
- অফ ডে: মঙ্গলবার।
- স্টপেজ: চট্টগ্রাম (বিকাল ৩:৪০ মিনিট)।
- যাত্রা সময়: ৮ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।
এই ট্রেনটি দিনের যাত্রার জন্য আদর্শ, কারণ আপনি দিনের আলোয় প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন।
২. পর্যটক এক্সপ্রেস (ট্রেন নং: ৮১৫)
- ডিপার্চার: কক্সবাজার থেকে রাত ৮:০০ মিনিট।
- আরাইভাল: ঢাকায় ভোর ৪:৩০ মিনিট।
- অফ ডে: রবিবার।
- স্টপেজ: চট্টগ্রাম (রাত ১০:৫০ মিনিট)।
- যাত্রা সময়: ৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
এই ট্রেনটি রাতের যাত্রার জন্য উপযুক্ত, বিশেষ করে যারা ঘুমিয়ে যাত্রা করতে চান।
সময়সূচীতে পরিবর্তন হতে পারে, বিশেষ করে ছুটির দিনে বা আবহাওয়ার কারণে। সর্বদা বাংলাদেশ রেলওয়ের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে চেক করুন।
টিকিটের দাম: লেটেস্ট ২০২৬ আপডেট
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে, এবং ২০২৬ সালে এটি একই রয়েছে। কক্সবাজার থেকে ঢাকা বা Dhaka to Cox’s Bazar train-এর দাম একই। নিচে টেবিলে বিস্তারিত:
| ক্লাস | দাম (টাকা) | বিবরণ |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৮০০ | সাধারণ সিট, নন-এসি |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,৪৪৯ | এসি সিট, আরামদায়ক |
| এসি সিট | ১,৭৪০ | প্রিমিয়াম এসি সিট |
| এসি বার্থ | ২,৬৫৬ | ঘুমানোর ব্যবস্থা সহ এসি |
এই দামগুলো ভ্যাট সহ, এবং নন-স্টপ সার্ভিসের জন্য অতিরিক্ত চার্জ যোগ করা হয়েছে। শিশু এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ডিসকাউন্ট রয়েছে। টিকিট কেনার সময় অ্যাপে চেক করুন।
কীভাবে টিকিট বুক করবেন: ধাপে ধাপে গাইড
টিকিট বুকিং সহজ। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন:
১. https://eticket.railway.gov.bd/ -এ যান।
২. অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন বা লগইন করুন।
৩. রুট সিলেক্ট করুন: কক্সবাজার টু ঢাকা।
৪. তারিখ এবং ক্লাস চয়ন করুন।
৫. পেমেন্ট করুন (বিকাশ, কার্ড ইত্যাদি)।
৬. টিকিট প্রিন্ট করুন।
অগ্রিম ১০ দিন আগে বুক করুন, কারণ টিকিট দ্রুত শেষ হয়। অফলাইনে স্টেশন থেকেও কিনতে পারেন।
ভ্রমণকারীদের জন্য টিপস: কক্সবাজার টু ঢাকা ট্রেন যাত্রায়
কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় কিছু টিপস মেনে চললে যাত্রা আরও সুন্দর হবে:
- সময়মতো পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে যান।
- লাগেজ: হালকা লাগেজ নিন, কারণ ট্রেনে স্পেস সীমিত।
- খাবার: ট্রেনে ফুড সার্ভিস রয়েছে, কিন্তু নিজের সাথে পানি এবং স্ন্যাকস নিন।
- সেফটি: মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন, বিশেষ করে কোভিড পরবর্তী সময়ে।
- পর্যটক টিপ: যদি Dhaka to Cox’s Bazar train-এ যান, তাহলে সকালের ট্রেন নিন যাতে দিনের আলোয় সৈকত উপভোগ করতে পারেন।
- আবহাওয়া চেক: বর্ষাকালে ট্রেন দেরি হতে পারে।
- অলটারনেটিভ: যদি ট্রেন না পান, তাহলে বাস (১১ ঘণ্টা) বা ফ্লাইট (১ ঘণ্টা) ব্যবহার করুন।
এই টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার যাত্রা নিরাপদ এবং আরামদায়ক হবে।
কক্সবাজারের আকর্ষণীয় স্থান: যাত্রার আগে জেনে নিন
কক্সবাজার যাওয়ার আগে বা ফিরে আসার সময় এই স্থানগুলো দেখুন:
- সমুদ্র সৈকত: ১২০ কিলোমিটার লম্বা সৈকত।
- হিমছড়ি: পাহাড় এবং ঝর্ণা।
- ইনানী বিচ: শান্ত সৈকত।
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: নৌকায় যাওয়া যায়।
- রামু: বৌদ্ধ মন্দির।
এই স্থানগুলো Dhaka to Cox’s Bazar train যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
অলটারনেটিভ যাতায়াত: ট্রেন না পেলে কী করবেন
যদি ট্রেনের টিকিট না পান, তাহলে:
- বাস: শ্যামলী, গ্রীন লাইন ইত্যাদি, দাম ১২০০-১৫০০ টাকা, সময় ১০-১২ ঘণ্টা।
- ফ্লাইট: ইউএস-বাংলা, নভোয়াইর ইত্যাদি, দাম ৫০০০-৭০০০ টাকা, সময় ১ ঘণ্টা।
- কার: প্রাইভেট কারে ৮-১০ ঘণ্টা, কিন্তু রোড ট্রাফিক থাকতে পারে। ট্রেন সবচেয়ে সস্তা এবং আরামদায়ক।
কক্সবাজার টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে এই বিস্তারিত গাইড আশা করি আপনাদের সাহায্য করবে। Dhaka to Cox’s Bazar train বা উল্টো দিকের যাত্রা যাই হোক, এই রুটটি বাংলাদেশের সৌন্দর্য দেখার সুযোগ দেয়। লেটেস্ট আপডেট অনুসারে, রেলওয়ে আরও উন্নয়ন করছে, যা ভবিষ্যতে যাত্রাকে আরও ভালো করবে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট করুন।

আমি রাফসান রাসেল, গাইড বাংলা ডট কম-এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং ও SEO বিশেষজ্ঞ এবং পেশাগত কাজের পাশাপাশি টুকটাক ব্লগিং করতে ভালোবাসি।
গাইড বাংলার প্রতিটি পোস্ট তৈরি করা হয় পাঠকের প্রয়োজন ও সুবিধাকে কেন্দ্রে রেখে। আমি বিশ্বাস করি, তথ্যের প্রাপ্যতা এবং সহজবোধ্য ব্যাখ্যা মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে আরও উন্নত করতে পারে।
আমার উদ্দেশ্য হলো গাইড বাংলাকে এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা, যেখানে পাঠকরা কোনো জটিল বিষয়ের সহজ সমাধান এবং বাস্তবসম্মত পরামর্শ পেতে পারেন। আশা করি আমার প্রতিটি লেখা পাঠকের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।







